ঢাকা ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ঘোড়ার গাড়ির প্রয়োজনীয়তা এখনো ফুরায়নি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:২২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৩
  • / ৩৪৭ বার পড়া হয়েছে

ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর(দিনাজপুর)প্রতিনিধিঃ

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলে এখনো ঘোড়ার গাড়ি চলতে দেখা যায়।ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি একটা সময় ছিল মানুষের একমাত্র বাহন। সর্বত্রই ছিল এই ঘোড়ার গাড়ির কদর। গ্রামের কাঁচা রাস্তায় যেখানে যান্ত্রিক গাড়ি দিয়ে মালামাল পরিবহন কঠিন সেসব এলাকার সড়কে ঘোড়ার গাড়ির কদর রয়েছে ব্যাপক। পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা এই ঘোড়াগুলো বেশিরভাগই ব্যক্তি মালিকানাধীন। একটি ঘোড়া ব্যবহার করে দুই চাকার গাড়ি তৈরি করা হয়। সেই গাড়িতে পরিবহন করা হয় বিভিন্ন কৃষিপণ্য ।

গত মঙ্গলবার(২৪ অক্টোবর )বিকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নের কশবা সাগরপুর এলাকার নজু মিঞার ঘোড়ার গাড়িতে করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে আগাম জাতের ধান বোঝাই করে নিয়ে আসছে কাটলা বাজারে।
জানা যায়, গ্রামের কৃষকের কাজ থেকে ঐসব ধান ক্রয় করেছেন স্থানীয় ধান ব্যবসায়ী। আর ঐসব ধান ব্যবসায়ীর ধান গ্রামের কৃষকের বাড়ি থেকে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে।স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী বলেন,গ্রামের কাঁচা রাস্তায় যান্ত্রিক গাড়ি দিয়ে মালামাল পরিবহন করা কঠিন। তাই ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার করে গ্রামের কৃষকের বাড়ি থেকে ধান সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসতে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়।
এছাড়াও জোতবানী ইউনিয়নের কসবা সাগরপুর গ্রামের মৃত সোলেমান হোসেনের ছেলে জামাল উদ্দিন এখনো ঘোড়া দিয়ে জমিতে হাল চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
তাছাড়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামে কৃষিপণ্য ও নিত্যপণ্য বহনে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে ঘোড়া গাড়ি ।ঘোড়ার গাড়ির মাধ্যমে এলাকায় পরিবহন সেবা দিচ্ছেন নজু মিয়া। এতে করে তার ব্যক্তিগত আয়ের পাশাপাশি আশপাশের কৃষকরা এবং ব্যবসায়ীরা স্বল্প খরচে সেবা পাচ্ছেন।

ঘোড়ার গাড়ির চালক নজু মিয়া জানান, আমরা গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মালামাল পরিবহন করে থাকি। ঘোড়া গাড়িতে পরিবহন, পারিশ্রমিক নির্ধারণ হয় পণ্যের পরিমাণ ও গন্তব্যের দূরত্বের ভিত্তিতে।

প্রতিদিন গাড়ি চালালে ৫শত থেকে ১ হাজার বা আরো বেশি টাকা ইনকাম করা যায়। গাড়ি চালালে ঘোড়ার খাবার বাবদ ২শত থেকে ৩শত টাকা খরচ হয়ে থাকে। তাছাড়া যান্ত্রিক গাড়ির চেয়ে ঘোড়া গাড়িতে পরিবহন খরচও অনেক কম। বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ রাজ্জাক মন্ডল বলেন, একটা সময় ছিল ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি মানুষের একমাত্র বাহন। কিন্তু এখন আর তেমন দেখা যায়না। তার পরেও গ্রামের কয়েকটি এলাকার কাঁচা রাস্তায় কৃষকের উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের কৃষি পণ্য পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ি ব্যাবহার করা হচ্ছে। প্রাচীনকাল থেকে দেশের গ্রামীণ জনপদের মেঠো পথে যাতায়াত মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে গরুর ও ঘোড়ার গাড়ির বহুল প্রচলন পরিলক্ষিত হতো। বর্তমানে দেশের গ্রামীণ জনপদের বেশীরভাগ কাঁচা ও মেঠোপথকে পাকাকরন করা হয়েছে।যান্ত্রিক ইঞ্জিনের স্পর্শে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী অনেক যানবাহনই পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে হাতে গোনা দু-একটা গ্রামে ঘোড়ার গাড়ি দেখা গেলেও তা জরাজীর্ণ। আজ শহরের ছেলে- মেয়েরা তো দূরের কথা গ্রামের ছেলে-মেয়েরাও ঘোড়া গাড়ির সঙ্গে খুব একটা পরিচিত নয়।
কিন্তু বাংলা এবং বাঙালির ঐতিহ্যগুলোকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। শুধু প্রয়োজনীয় যানবাহন হিসেবে না ভেবে ঐতিহ্যের স্বার্থে এবং শিশু- কিশোরদের নির্মল আনন্দের উৎস হিসেবে যানটি আধুনিকায়ন সংরক্ষণে আমাদের উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঘোড়ার গাড়ির প্রয়োজনীয়তা এখনো ফুরায়নি

আপডেট সময় : ০৮:২২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৩

ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর(দিনাজপুর)প্রতিনিধিঃ

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলে এখনো ঘোড়ার গাড়ি চলতে দেখা যায়।ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি একটা সময় ছিল মানুষের একমাত্র বাহন। সর্বত্রই ছিল এই ঘোড়ার গাড়ির কদর। গ্রামের কাঁচা রাস্তায় যেখানে যান্ত্রিক গাড়ি দিয়ে মালামাল পরিবহন কঠিন সেসব এলাকার সড়কে ঘোড়ার গাড়ির কদর রয়েছে ব্যাপক। পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা এই ঘোড়াগুলো বেশিরভাগই ব্যক্তি মালিকানাধীন। একটি ঘোড়া ব্যবহার করে দুই চাকার গাড়ি তৈরি করা হয়। সেই গাড়িতে পরিবহন করা হয় বিভিন্ন কৃষিপণ্য ।

গত মঙ্গলবার(২৪ অক্টোবর )বিকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নের কশবা সাগরপুর এলাকার নজু মিঞার ঘোড়ার গাড়িতে করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে আগাম জাতের ধান বোঝাই করে নিয়ে আসছে কাটলা বাজারে।
জানা যায়, গ্রামের কৃষকের কাজ থেকে ঐসব ধান ক্রয় করেছেন স্থানীয় ধান ব্যবসায়ী। আর ঐসব ধান ব্যবসায়ীর ধান গ্রামের কৃষকের বাড়ি থেকে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে।স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী বলেন,গ্রামের কাঁচা রাস্তায় যান্ত্রিক গাড়ি দিয়ে মালামাল পরিবহন করা কঠিন। তাই ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার করে গ্রামের কৃষকের বাড়ি থেকে ধান সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসতে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়।
এছাড়াও জোতবানী ইউনিয়নের কসবা সাগরপুর গ্রামের মৃত সোলেমান হোসেনের ছেলে জামাল উদ্দিন এখনো ঘোড়া দিয়ে জমিতে হাল চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
তাছাড়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামে কৃষিপণ্য ও নিত্যপণ্য বহনে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে ঘোড়া গাড়ি ।ঘোড়ার গাড়ির মাধ্যমে এলাকায় পরিবহন সেবা দিচ্ছেন নজু মিয়া। এতে করে তার ব্যক্তিগত আয়ের পাশাপাশি আশপাশের কৃষকরা এবং ব্যবসায়ীরা স্বল্প খরচে সেবা পাচ্ছেন।

ঘোড়ার গাড়ির চালক নজু মিয়া জানান, আমরা গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মালামাল পরিবহন করে থাকি। ঘোড়া গাড়িতে পরিবহন, পারিশ্রমিক নির্ধারণ হয় পণ্যের পরিমাণ ও গন্তব্যের দূরত্বের ভিত্তিতে।

প্রতিদিন গাড়ি চালালে ৫শত থেকে ১ হাজার বা আরো বেশি টাকা ইনকাম করা যায়। গাড়ি চালালে ঘোড়ার খাবার বাবদ ২শত থেকে ৩শত টাকা খরচ হয়ে থাকে। তাছাড়া যান্ত্রিক গাড়ির চেয়ে ঘোড়া গাড়িতে পরিবহন খরচও অনেক কম। বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ রাজ্জাক মন্ডল বলেন, একটা সময় ছিল ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি মানুষের একমাত্র বাহন। কিন্তু এখন আর তেমন দেখা যায়না। তার পরেও গ্রামের কয়েকটি এলাকার কাঁচা রাস্তায় কৃষকের উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের কৃষি পণ্য পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ি ব্যাবহার করা হচ্ছে। প্রাচীনকাল থেকে দেশের গ্রামীণ জনপদের মেঠো পথে যাতায়াত মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে গরুর ও ঘোড়ার গাড়ির বহুল প্রচলন পরিলক্ষিত হতো। বর্তমানে দেশের গ্রামীণ জনপদের বেশীরভাগ কাঁচা ও মেঠোপথকে পাকাকরন করা হয়েছে।যান্ত্রিক ইঞ্জিনের স্পর্শে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী অনেক যানবাহনই পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে হাতে গোনা দু-একটা গ্রামে ঘোড়ার গাড়ি দেখা গেলেও তা জরাজীর্ণ। আজ শহরের ছেলে- মেয়েরা তো দূরের কথা গ্রামের ছেলে-মেয়েরাও ঘোড়া গাড়ির সঙ্গে খুব একটা পরিচিত নয়।
কিন্তু বাংলা এবং বাঙালির ঐতিহ্যগুলোকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। শুধু প্রয়োজনীয় যানবাহন হিসেবে না ভেবে ঐতিহ্যের স্বার্থে এবং শিশু- কিশোরদের নির্মল আনন্দের উৎস হিসেবে যানটি আধুনিকায়ন সংরক্ষণে আমাদের উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।