ঢাকা ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাঁচবিবিতে বুড়াবুড়ির মাজারে ২৫তম বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিলের প্রস্তুতি সভা হিলি সীমান্তে দুই বাংলার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হরিপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত পাঁচবিবিতে নির্বাচনী মাঠে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোছাঃ রেবেকা সুলতানা বিরামপুরে সমতল ভূমিতে বসবাসরত ৩৫০ ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠীর মাঝে বিনামূল্যে মুরগি বিতরণ পাঁচবিবিতে আবু হোসাইন হত্যা মামলায় মা-ছেলেসহ ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড পাঁচবিবিতে বন্ধুত্বের মিলন মেলা-৯০ অনুষ্ঠিত হিলিতে দিনব্যাপি পণ্য প্রদর্শর্নী ও পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত পাঁচবিবিতে রেলওয়ের সম্পত্তি লীজকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন পাঁচবিবিতে বণিক সমিতির ৫ম সাধারণ সভায় আহবায়ক কমিটি ঘোষনা একাংশের আপত্তি

তাড়াশে থৈ থৈ পানির মধ্যে চলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ৩৬৭ বার পড়া হয়েছে

রফিকুল ইসলাম, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

চলনবিল অধ্যূষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছর বর্ষাকালে থৈ থৈ পানির সাথে যুদ্ধ করে চলে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। বিদ্যালয়টি হলো উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের প্রতিরামপুর গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বিদ্যালয়টি নিচু এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় প্রতি বছর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বর্ষা কালে বিদ্যালয়ে যাতায়াতে এ দূর্ভোগ পোহাতে হয় এমনটা জানালেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক মো. আশকান আলী।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়টি চলনবিলের প্রাণ কেন্দ্রে হওয়ায় বন্যার পানি আসা মাত্র বিদ্যালয়ের চারপাশে পানি থৈ থৈ করে। এ সময় প্রকৃতপক্ষে মনে হয় বিদ্যালয়টি পানির ওপর ভাসছে। আর তখন বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় নৌকা। আবার কখনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভেলায় করেও যাতায়াত করে থাকেন।
ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মো. আবুল কালাম জানায়, বর্ষাকালে বিদ্যালয়ে যেতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। অনেক সময় পানিতে পড়ে আমাদের বই খাতা ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া নৌকায় কিংবা ভেলায় করে অনেক ঝুকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এ ছাড়াও ভাড়া করা নৌকায় যাতায়াতে আমাদের অনেক খরচ হয়ে থাকে। বিদ্যালয়টি উচুস্থানে র্নিমানের জন্য সরকারের নিকট দাবীও জানায় কালাম ।
প্রতিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, বর্ষা কালে চলনবিলের বেশীর ভাগ গ্রামগুলোর রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। আর এ অবস্থা চলে ৩ থেকে ৪ মাস পর্যন্ত। তাই ওই সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সীমাহীন দুর্ভোগ এবং ঝুঁকি মাথায় নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। কোন কোন সময় ঢেউয়ের পরিমান বেশি থাকলে সে সময় বিদ্যালয়ে যাতায়াত আরো ঝুকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় নৌকা এবং ভেলায় করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে ঝড় এবং বৃষ্টির কবলে পড়ে শিক্ষার্থীদের বইপুস্তক এবং জামা-কাপড় ভেজার পাশাপাশি নৌকাডুবির উপক্রম হয়। ফলে এ সময় বিশেষ করে শিশু শ্রেণি ও দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসতেও পারে না। এতে বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কিছুটা কমে যায়। এ অবস্থায় বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আমরা নৌকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করে থাকি। ফলে শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগ, ভোগান্তি এবং ঝুঁকিকে উপেক্ষা করেও বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে থাকে।
তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফ আলী বলেন, বর্ষাকালে বন্যার পানির কথা বিবেচনা করে সরকার বিদ্যালয়টিতে ফ্লাডলেবেল ভবন নির্মাণ করেছে। এ মৌসুমে শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ে যাতায়াতে ঝুকিপূর্ণ হলেও বর্ষাকালে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম যথারীতি পরিচালিত হয়ে থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

তাড়াশে থৈ থৈ পানির মধ্যে চলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান

আপডেট সময় : ০৩:৫০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

রফিকুল ইসলাম, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

চলনবিল অধ্যূষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছর বর্ষাকালে থৈ থৈ পানির সাথে যুদ্ধ করে চলে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। বিদ্যালয়টি হলো উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের প্রতিরামপুর গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বিদ্যালয়টি নিচু এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় প্রতি বছর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বর্ষা কালে বিদ্যালয়ে যাতায়াতে এ দূর্ভোগ পোহাতে হয় এমনটা জানালেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক মো. আশকান আলী।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়টি চলনবিলের প্রাণ কেন্দ্রে হওয়ায় বন্যার পানি আসা মাত্র বিদ্যালয়ের চারপাশে পানি থৈ থৈ করে। এ সময় প্রকৃতপক্ষে মনে হয় বিদ্যালয়টি পানির ওপর ভাসছে। আর তখন বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় নৌকা। আবার কখনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভেলায় করেও যাতায়াত করে থাকেন।
ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মো. আবুল কালাম জানায়, বর্ষাকালে বিদ্যালয়ে যেতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। অনেক সময় পানিতে পড়ে আমাদের বই খাতা ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া নৌকায় কিংবা ভেলায় করে অনেক ঝুকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এ ছাড়াও ভাড়া করা নৌকায় যাতায়াতে আমাদের অনেক খরচ হয়ে থাকে। বিদ্যালয়টি উচুস্থানে র্নিমানের জন্য সরকারের নিকট দাবীও জানায় কালাম ।
প্রতিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, বর্ষা কালে চলনবিলের বেশীর ভাগ গ্রামগুলোর রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। আর এ অবস্থা চলে ৩ থেকে ৪ মাস পর্যন্ত। তাই ওই সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সীমাহীন দুর্ভোগ এবং ঝুঁকি মাথায় নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। কোন কোন সময় ঢেউয়ের পরিমান বেশি থাকলে সে সময় বিদ্যালয়ে যাতায়াত আরো ঝুকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় নৌকা এবং ভেলায় করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে ঝড় এবং বৃষ্টির কবলে পড়ে শিক্ষার্থীদের বইপুস্তক এবং জামা-কাপড় ভেজার পাশাপাশি নৌকাডুবির উপক্রম হয়। ফলে এ সময় বিশেষ করে শিশু শ্রেণি ও দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসতেও পারে না। এতে বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কিছুটা কমে যায়। এ অবস্থায় বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আমরা নৌকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করে থাকি। ফলে শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগ, ভোগান্তি এবং ঝুঁকিকে উপেক্ষা করেও বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে থাকে।
তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফ আলী বলেন, বর্ষাকালে বন্যার পানির কথা বিবেচনা করে সরকার বিদ্যালয়টিতে ফ্লাডলেবেল ভবন নির্মাণ করেছে। এ মৌসুমে শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ে যাতায়াতে ঝুকিপূর্ণ হলেও বর্ষাকালে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম যথারীতি পরিচালিত হয়ে থাকে।