ঢাকা ০২:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হিলি বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ বিরামপুর উপজেলায় ১০৩ বছরের বৃদ্ধা স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র নিলেন নাতি বৌয়ের কাঁধে ভর করে কিশোর কিশোরীর উজ্জ্বল ভবিষ্যত ও আলোকিত জীবন হিলিতে চেয়ারম্যান কাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট এর উদ্বোধন জয়পুরহাটে পুলিশ সুপার ম্যারাথন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত পাঁচবিবিতে কোকতারা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে জানালার গ্রিল ভেঙ্গে দুধর্ষ চুরি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রাক্টর দূর্ঘটনায় নিহত ২ পাঁচবিবিতে বুড়াবুড়ির মাজারে ২৫তম বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিলের প্রস্তুতি সভা হিলি সীমান্তে দুই বাংলার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হরিপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

তাড়াশে ‌‌পাটের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:২৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুলাই ২০২৩
  • / ৩৪০ বার পড়া হয়েছে

রফিকুল ইসলাম, তাড়াশ ( সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় চলতি মৌসুমে সোনালী আঁশ পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে।

ইতােমধ্যে পাট কাটা, জাগ দেয়া ও ধোয়ার পাশাপাশি এ নতুন পাট হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে। বাজারে দাম ভালো পাওয়ায এখন কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট জাগ দেয়া নিয়ে বিড়ম্বনায পড়েছেন পাট চাষীরা এমনটাই বললেন কৃষক আব্দুল মান্নান মন্ডর।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৭৪৫ হেক্টর জমিতে তোষা, মেস্তা ও কেনাফ জাতের পাটের চাষাবাদ করেছে কৃষকেরা। তবে মেস্তা জাতের পাট বেশি চাষ হয়েছে। আর এ বছর পাট উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মেট্টিক টন। পাট উৎপাদিত এলাকায় প্রায় ৪ সপ্তাহ ধরে পাট কাটা শুরু হয়েছে। আর এ সময় স্থানীয় কৃষকেরা পাট কাটা ও জাগ দেয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে।
চলতি মৌসুমে উপজেলার বারুহাঁস, তালম, নওগাঁ, সগুনা ও মাধাইনগর ইউনিয়নে পাট চাষাবাদ বেশি হয়েছে। বর্তমানে হাটে তোষা পাট ৩ হাজার ১০০ টাকা, মেছতা পাট ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে। পাট চাষে খরচের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষক মুখে হাসি ফুটেছে।

চরহামকুড়িযা গ্রামের স্থানীয় পাটচাষী কৃষক মো. আসলাম হোসেন বলছেন, আবহাওয়া অনুকলে থাকায় এবার পাট চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি বিঘায় প্রায় ৮ থেকে ১০ পাট উৎপাদিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে পাট কাটা ও জাগ দেয়া ও ধোঁয়া শুরু হয়েছে। নতুন পাটও হাট-বাজারে উঠেছে।
উপজেলার দোবিলা গ্রামের অারেক কৃষক জাহাঙ্গীর অালম জানান, এবার তিন বিঘা জমিতে কেনাফ জাতের পাট চাষা করেছি। জমিতে পাটের ভালো ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে পাট কাটা শুরু হয়েছে। পাট চাষাবাদ থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার টাকার খরচ হয়েছে। আশা করছি পাট এবং পাঠকাঠি বিক্রি করতে পারবো প্রায় লাখ টাকায়। এতে আমার অনেক টাকা লাভ হবে।

তবে অনেক স্থানে খাল বিল নদী নালায় পানি কম থাকায় বাড়তি শ্রমিক ও অর্থ ব্যয় করে দূরর্বতী স্থানে নিয়ে পাট জাগ দেয়া হচ্ছে। এতে আর্থিক ব্যয় কিছুটা বেশি হলেও লাভের মুখ দেখছে কৃষকেরা। তবে ভারী বর্ষণ হলে এই পরিস্থিতি থাকবে না।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পাট অনেক লাভজনক পণ্য। পাট চাষে খরচও তুলনামূলক ভাবে কম। ফলে কৃষকেরা পাট চাষে আগ্রহী বেশি হচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে পাট চাষীদের বীজসহ নানা প্রনোদনা দেয়া হয়েছে এবং এ পাট চাষে কৃষকদের নানা পরামর্শসহ উৎসাহিত করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুক’লে থাকায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে হাট-বাজারে পাটের দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা অনেক খুশি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

তাড়াশে ‌‌পাটের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট সময় : ০৫:২৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুলাই ২০২৩

রফিকুল ইসলাম, তাড়াশ ( সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় চলতি মৌসুমে সোনালী আঁশ পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে।

ইতােমধ্যে পাট কাটা, জাগ দেয়া ও ধোয়ার পাশাপাশি এ নতুন পাট হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে। বাজারে দাম ভালো পাওয়ায এখন কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট জাগ দেয়া নিয়ে বিড়ম্বনায পড়েছেন পাট চাষীরা এমনটাই বললেন কৃষক আব্দুল মান্নান মন্ডর।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৭৪৫ হেক্টর জমিতে তোষা, মেস্তা ও কেনাফ জাতের পাটের চাষাবাদ করেছে কৃষকেরা। তবে মেস্তা জাতের পাট বেশি চাষ হয়েছে। আর এ বছর পাট উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মেট্টিক টন। পাট উৎপাদিত এলাকায় প্রায় ৪ সপ্তাহ ধরে পাট কাটা শুরু হয়েছে। আর এ সময় স্থানীয় কৃষকেরা পাট কাটা ও জাগ দেয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে।
চলতি মৌসুমে উপজেলার বারুহাঁস, তালম, নওগাঁ, সগুনা ও মাধাইনগর ইউনিয়নে পাট চাষাবাদ বেশি হয়েছে। বর্তমানে হাটে তোষা পাট ৩ হাজার ১০০ টাকা, মেছতা পাট ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে। পাট চাষে খরচের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষক মুখে হাসি ফুটেছে।

চরহামকুড়িযা গ্রামের স্থানীয় পাটচাষী কৃষক মো. আসলাম হোসেন বলছেন, আবহাওয়া অনুকলে থাকায় এবার পাট চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি বিঘায় প্রায় ৮ থেকে ১০ পাট উৎপাদিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে পাট কাটা ও জাগ দেয়া ও ধোঁয়া শুরু হয়েছে। নতুন পাটও হাট-বাজারে উঠেছে।
উপজেলার দোবিলা গ্রামের অারেক কৃষক জাহাঙ্গীর অালম জানান, এবার তিন বিঘা জমিতে কেনাফ জাতের পাট চাষা করেছি। জমিতে পাটের ভালো ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে পাট কাটা শুরু হয়েছে। পাট চাষাবাদ থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার টাকার খরচ হয়েছে। আশা করছি পাট এবং পাঠকাঠি বিক্রি করতে পারবো প্রায় লাখ টাকায়। এতে আমার অনেক টাকা লাভ হবে।

তবে অনেক স্থানে খাল বিল নদী নালায় পানি কম থাকায় বাড়তি শ্রমিক ও অর্থ ব্যয় করে দূরর্বতী স্থানে নিয়ে পাট জাগ দেয়া হচ্ছে। এতে আর্থিক ব্যয় কিছুটা বেশি হলেও লাভের মুখ দেখছে কৃষকেরা। তবে ভারী বর্ষণ হলে এই পরিস্থিতি থাকবে না।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পাট অনেক লাভজনক পণ্য। পাট চাষে খরচও তুলনামূলক ভাবে কম। ফলে কৃষকেরা পাট চাষে আগ্রহী বেশি হচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে পাট চাষীদের বীজসহ নানা প্রনোদনা দেয়া হয়েছে এবং এ পাট চাষে কৃষকদের নানা পরামর্শসহ উৎসাহিত করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুক’লে থাকায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে হাট-বাজারে পাটের দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা অনেক খুশি।