ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাঁচবিবিতে কোকতারা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে জানালার গ্রিল ভেঙ্গে দুধর্ষ চুরি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রাক্টর দূর্ঘটনায় নিহত ২ পাঁচবিবিতে বুড়াবুড়ির মাজারে ২৫তম বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিলের প্রস্তুতি সভা হিলি সীমান্তে দুই বাংলার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হরিপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত পাঁচবিবিতে নির্বাচনী মাঠে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোছাঃ রেবেকা সুলতানা বিরামপুরে সমতল ভূমিতে বসবাসরত ৩৫০ ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠীর মাঝে বিনামূল্যে মুরগি বিতরণ পাঁচবিবিতে আবু হোসাইন হত্যা মামলায় মা-ছেলেসহ ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড পাঁচবিবিতে বন্ধুত্বের মিলন মেলা-৯০ অনুষ্ঠিত হিলিতে দিনব্যাপি পণ্য প্রদর্শর্নী ও পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত

তাড়াশ প্রাণিসম্পদ অফিসে চিকিসৎক সংকট, মারা যাচ্ছে গবাদিপশু 

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০২৩
  • / ৩৫৮ বার পড়া হয়েছে

রফিকুল ইসলাম , তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর চিকিৎসক সংকট হয়ে পড়েছে । ফলে লাম্পি স্কিন রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে উপজেলা জুড়ে। এই ভাইরাস জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বিগত ১ মাসে প্রায় অর্ধ শতাধিক ছোট- বড় গরু মারা গেছে। গরু বাঁচাতে বাধ্য হয়ে স্থানীয় ভ্যাটেরিনারি ওষুধ বিক্রেতাদের পরামর্শে গরুর চিকিৎসা করছেন খামিরীরা।লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর সুস্থ হয়ে ওঠা নিয়ে অধিকাংশ খামারী আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এদিকে তাড়াশ প্রাণিসম্পদ দপ্তরে চিকিৎসক সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে অাসছে এমন পরিস্থিতিতে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. অলিউল ইসলামকে তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি সপ্তাহে এক থেকে দুইদিন হাসপাতালে আসেন। ফলে বাকী দিন গুলোতে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা গবাদিপশু।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগী খামারীরা সরকারি চিকিৎসা সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে পল্লী ভ্যাটেরিনারি চিকিৎসক, ভ্যাটেরিনারি ওষুধ বিক্রেতাদের পরামর্শে ওষুধ কিনে রোগাক্রান্ত গরুর চিকিৎসা করছেন।
এতে গুণতে হচ্ছে তাদের অতিরিক্ত টাকা।
জানা গেছে, ওই দপ্তরের ভ্যাটেরিনারি সার্জন, ইউএলএ, ভিএফএ, এফ.এ. (এ.আই), কম্পাউন্ডার, অফিস সহকারী, ড্রেসার ও অফিস সহায়কের পদের আরও ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ শূন্য রয়ে গেছে দীর্ঘদিন ধরে। এ কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে । পৌর এলাকার আসানবাড়ী গ্রামের খামারী রেজাউল করিম জানান, লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ১টি গরু মারা গেছে আমার। সরকারিভাবে কোনো চিকিৎসাসেবা পাইনি। অপরদিকে একই গ্রামের আলমাছের স্ত্রী ছাবেদা খাতুন বলেন, অভাব-অনটনের সংসার আমাদের। গোয়ালের দুইটি গরু অর্থ যোগানের অন্যতম ভরসা। ১টি গরুর লাম্পি স্কিন রোগ হয়েছে ১৫ দিন হয়ে গেল। দুশ্চিন্তায় রাতে ঘুমাই না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর এলাকার আসানবাড়ী গ্রামের আলমাছের গরু, আবু ছাইমের গরু ও আব্দুল মালেকসহ আরও অনেক খামারীর গরু লাম্পি স্কিন রোগে কাতর হয়ে পড়েছে। এসব গরুর সমস্ত শরীরে গুটি বেরিয়েছে। কোনো কোনো গরুর শরীরে ঘা হয়ে গেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. অলিউল ইসলাম বলেন, প্রত্যেক সপ্তাহে একদিন হলেও তিনি তাড়াশে অফিস করেন।
এ প্রসঙ্গে রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি সামাল দেয়ার মতো চিকিৎসক তাড়াশ প্রাণিসম্পদ দপ্তরে নেই। লোকবল সংকট নিরসনে নতুন নিয়োগ দেয়ার জোর সুপারিশ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

তাড়াশ প্রাণিসম্পদ অফিসে চিকিসৎক সংকট, মারা যাচ্ছে গবাদিপশু 

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০২৩

রফিকুল ইসলাম , তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর চিকিৎসক সংকট হয়ে পড়েছে । ফলে লাম্পি স্কিন রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে উপজেলা জুড়ে। এই ভাইরাস জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বিগত ১ মাসে প্রায় অর্ধ শতাধিক ছোট- বড় গরু মারা গেছে। গরু বাঁচাতে বাধ্য হয়ে স্থানীয় ভ্যাটেরিনারি ওষুধ বিক্রেতাদের পরামর্শে গরুর চিকিৎসা করছেন খামিরীরা।লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর সুস্থ হয়ে ওঠা নিয়ে অধিকাংশ খামারী আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এদিকে তাড়াশ প্রাণিসম্পদ দপ্তরে চিকিৎসক সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে অাসছে এমন পরিস্থিতিতে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. অলিউল ইসলামকে তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি সপ্তাহে এক থেকে দুইদিন হাসপাতালে আসেন। ফলে বাকী দিন গুলোতে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা গবাদিপশু।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগী খামারীরা সরকারি চিকিৎসা সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে পল্লী ভ্যাটেরিনারি চিকিৎসক, ভ্যাটেরিনারি ওষুধ বিক্রেতাদের পরামর্শে ওষুধ কিনে রোগাক্রান্ত গরুর চিকিৎসা করছেন।
এতে গুণতে হচ্ছে তাদের অতিরিক্ত টাকা।
জানা গেছে, ওই দপ্তরের ভ্যাটেরিনারি সার্জন, ইউএলএ, ভিএফএ, এফ.এ. (এ.আই), কম্পাউন্ডার, অফিস সহকারী, ড্রেসার ও অফিস সহায়কের পদের আরও ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ শূন্য রয়ে গেছে দীর্ঘদিন ধরে। এ কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে । পৌর এলাকার আসানবাড়ী গ্রামের খামারী রেজাউল করিম জানান, লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ১টি গরু মারা গেছে আমার। সরকারিভাবে কোনো চিকিৎসাসেবা পাইনি। অপরদিকে একই গ্রামের আলমাছের স্ত্রী ছাবেদা খাতুন বলেন, অভাব-অনটনের সংসার আমাদের। গোয়ালের দুইটি গরু অর্থ যোগানের অন্যতম ভরসা। ১টি গরুর লাম্পি স্কিন রোগ হয়েছে ১৫ দিন হয়ে গেল। দুশ্চিন্তায় রাতে ঘুমাই না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর এলাকার আসানবাড়ী গ্রামের আলমাছের গরু, আবু ছাইমের গরু ও আব্দুল মালেকসহ আরও অনেক খামারীর গরু লাম্পি স্কিন রোগে কাতর হয়ে পড়েছে। এসব গরুর সমস্ত শরীরে গুটি বেরিয়েছে। কোনো কোনো গরুর শরীরে ঘা হয়ে গেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. অলিউল ইসলাম বলেন, প্রত্যেক সপ্তাহে একদিন হলেও তিনি তাড়াশে অফিস করেন।
এ প্রসঙ্গে রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি সামাল দেয়ার মতো চিকিৎসক তাড়াশ প্রাণিসম্পদ দপ্তরে নেই। লোকবল সংকট নিরসনে নতুন নিয়োগ দেয়ার জোর সুপারিশ করা হয়েছে।