ঢাকা ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হিলি বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ বিরামপুর উপজেলায় ১০৩ বছরের বৃদ্ধা স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র নিলেন নাতি বৌয়ের কাঁধে ভর করে কিশোর কিশোরীর উজ্জ্বল ভবিষ্যত ও আলোকিত জীবন হিলিতে চেয়ারম্যান কাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট এর উদ্বোধন জয়পুরহাটে পুলিশ সুপার ম্যারাথন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত পাঁচবিবিতে কোকতারা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে জানালার গ্রিল ভেঙ্গে দুধর্ষ চুরি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রাক্টর দূর্ঘটনায় নিহত ২ পাঁচবিবিতে বুড়াবুড়ির মাজারে ২৫তম বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিলের প্রস্তুতি সভা হিলি সীমান্তে দুই বাংলার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হরিপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

পাঁচবিবিতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অফিস সহকারীর সংবাদ সম্মেলন

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৮:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অগাস্ট ২০২৩
  • / ৪৪৮ বার পড়া হয়েছে

 

দবিরুল ইসলাম পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:

জয়পু্রহাটের পাঁচবিবি উপজেলার শিরট্টি মোস্তফা বিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার ফাজিল শাখা এমপিওভুক্ত করনের অজুহাতে অধ্যক্ষ মাও:আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে ৮ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ ও থানায় অভিযোগ দিয়ে উল্টো হয়রানী করায় আজ মঙ্গলবার দুপুরে শিরট্টি গ্রামের নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ভুক্তভুগী একই মাদ্রাসার অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী মরহুম হাজী জয়নুল হকের পুত্র মোঃ মতিয়র রহমান।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,বিগত ২০০২ সালের ১৮ই এপ্রিল শিরট্টি মোস্তফা বিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসায় অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে সরকারি বিধি মোতাবেক নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে ওই সালের ২৭ এপ্রিল থেকে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে কর্মরত আছি।বর্তমান অধ্যক্ষ মাওঃ আব্দুল বারী এক আলোচনায় আমাদেরকে(আমি সহ আরো ২ জন ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী) ডেকে বলেন যে, আমাদের মাদ্রাসার ফাজিল শাখা এমপিও ভুক্ত করনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ৮ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হবে। আমরা সরল বিশ্বাসে সরকারি বেতন পাওয়ার আশায় জমি বন্ধক রেখে ৩ জন মিলে (প্রত্যেকে ২ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭০০ টাকা) ৮ লক্ষ টাকা অধ্যক্ষকে দেই। কিছুদিন পর মাদ্রাসা পরিদর্শনে আসেন আরাবী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১জন পরিদর্শক। পরিদর্শন রিপোর্ট ভালো নেয়ার জন্য আমাদের(৩জন) নিকট থেকে আরো ৩০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন অধ্যক্ষ। কিছুদিন পর এমপিও ভুক্তির তালিকা প্রকাশ হলে দেখা যায়,আমাদের মাদ্রাসার ফাজিল শাখা এমপিও ভুক্তই হয়নি। তখন এমপিও ভুক্তি বাবদ দেয়া আমার টাকা ফেরত চাইলে অধ্যক্ষ ২ মাসের সময় চেয়ে নেন। এর কয়েকদিন পর আমার পদ(অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী)সহ আরাবি কম্পিউটার অপারেটর পদে ২জন চাকুরি প্রার্থীর নিকট থেকে গোপনে অধ্যক্ষ ও মাদ্রাসা কমিটি ১৫ লক্ষ টাকা করে মোট ৩০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন বলে জানতে পারি। এ সংক্রান্ত ২০২২ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর দৈনিক মুক্ত সকাল ও দৈনিক জনতা পত্রিকায় মাদ্রাসায় শূন্য পদ উল্লেখ করে ১টি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন অধ্যক্ষ। এই নিয়োগের বিরুদ্ধে আমি জয়পুরহাট জজ কোর্টে ১টি মামলা দায়ের করি। যার নং-৪৪ /২০২৩ । মামলার প্রেক্ষিতে আদালত অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটিকে শোকজ করেন এবং নিয়োগ সংক্রান্ত স্থগিতাদেশ জারি করেন। এরপর আবারো আমাদেরকে এক আলোচনায় ডেকে বলেন যে, তোমার পদে তো আমরা নিয়োগ দিচ্ছি না। ঐ দুই পত্রিকায় সংশোধনী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে বলেন যে, তুমি মামলাটি উঠিয়ে নাও।
আমি সংশোধনী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ফটোকপি নিয়ে ওই তারিখের ঢাকা এবং বগুড়ার ওই দুই পত্রিকা সংগ্রহ করে দেখতে পাই যে, ওই তারিখে কোন সংশোধনী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশই হয়নি। আমার নিকট এমন জালিয়াতি করায় অধ্যক্ষের নিকট দেয়া আমার সমুদয় টাকা ফেরত চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে আমার বাক-বিতন্ডা ঘটে। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ আমার বিরুদ্ধে থানায় ১টি সাধারণ ডাইরী করে হয়রানি করছেন। এমন পরিস্থিতিতে আমি খুবই ভীত ও সন্তুস্ত। এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বিচার প্রার্থনা করছি। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মাওঃ আব্দুল বারীর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন,আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

পাঁচবিবিতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অফিস সহকারীর সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৩:৩৮:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অগাস্ট ২০২৩

 

দবিরুল ইসলাম পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:

জয়পু্রহাটের পাঁচবিবি উপজেলার শিরট্টি মোস্তফা বিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার ফাজিল শাখা এমপিওভুক্ত করনের অজুহাতে অধ্যক্ষ মাও:আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে ৮ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ ও থানায় অভিযোগ দিয়ে উল্টো হয়রানী করায় আজ মঙ্গলবার দুপুরে শিরট্টি গ্রামের নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ভুক্তভুগী একই মাদ্রাসার অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী মরহুম হাজী জয়নুল হকের পুত্র মোঃ মতিয়র রহমান।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,বিগত ২০০২ সালের ১৮ই এপ্রিল শিরট্টি মোস্তফা বিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসায় অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে সরকারি বিধি মোতাবেক নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে ওই সালের ২৭ এপ্রিল থেকে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে কর্মরত আছি।বর্তমান অধ্যক্ষ মাওঃ আব্দুল বারী এক আলোচনায় আমাদেরকে(আমি সহ আরো ২ জন ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী) ডেকে বলেন যে, আমাদের মাদ্রাসার ফাজিল শাখা এমপিও ভুক্ত করনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ৮ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হবে। আমরা সরল বিশ্বাসে সরকারি বেতন পাওয়ার আশায় জমি বন্ধক রেখে ৩ জন মিলে (প্রত্যেকে ২ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭০০ টাকা) ৮ লক্ষ টাকা অধ্যক্ষকে দেই। কিছুদিন পর মাদ্রাসা পরিদর্শনে আসেন আরাবী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১জন পরিদর্শক। পরিদর্শন রিপোর্ট ভালো নেয়ার জন্য আমাদের(৩জন) নিকট থেকে আরো ৩০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন অধ্যক্ষ। কিছুদিন পর এমপিও ভুক্তির তালিকা প্রকাশ হলে দেখা যায়,আমাদের মাদ্রাসার ফাজিল শাখা এমপিও ভুক্তই হয়নি। তখন এমপিও ভুক্তি বাবদ দেয়া আমার টাকা ফেরত চাইলে অধ্যক্ষ ২ মাসের সময় চেয়ে নেন। এর কয়েকদিন পর আমার পদ(অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী)সহ আরাবি কম্পিউটার অপারেটর পদে ২জন চাকুরি প্রার্থীর নিকট থেকে গোপনে অধ্যক্ষ ও মাদ্রাসা কমিটি ১৫ লক্ষ টাকা করে মোট ৩০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন বলে জানতে পারি। এ সংক্রান্ত ২০২২ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর দৈনিক মুক্ত সকাল ও দৈনিক জনতা পত্রিকায় মাদ্রাসায় শূন্য পদ উল্লেখ করে ১টি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন অধ্যক্ষ। এই নিয়োগের বিরুদ্ধে আমি জয়পুরহাট জজ কোর্টে ১টি মামলা দায়ের করি। যার নং-৪৪ /২০২৩ । মামলার প্রেক্ষিতে আদালত অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটিকে শোকজ করেন এবং নিয়োগ সংক্রান্ত স্থগিতাদেশ জারি করেন। এরপর আবারো আমাদেরকে এক আলোচনায় ডেকে বলেন যে, তোমার পদে তো আমরা নিয়োগ দিচ্ছি না। ঐ দুই পত্রিকায় সংশোধনী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে বলেন যে, তুমি মামলাটি উঠিয়ে নাও।
আমি সংশোধনী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ফটোকপি নিয়ে ওই তারিখের ঢাকা এবং বগুড়ার ওই দুই পত্রিকা সংগ্রহ করে দেখতে পাই যে, ওই তারিখে কোন সংশোধনী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশই হয়নি। আমার নিকট এমন জালিয়াতি করায় অধ্যক্ষের নিকট দেয়া আমার সমুদয় টাকা ফেরত চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে আমার বাক-বিতন্ডা ঘটে। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ আমার বিরুদ্ধে থানায় ১টি সাধারণ ডাইরী করে হয়রানি করছেন। এমন পরিস্থিতিতে আমি খুবই ভীত ও সন্তুস্ত। এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বিচার প্রার্থনা করছি। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মাওঃ আব্দুল বারীর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন,আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।