ঢাকা ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিরামপুরে পাট নিয়ে বিপাকে কৃষক,পাচ্ছে না ন্যায্য মূল্য

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ৩৬৭ বার পড়া হয়েছে

ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর(দিনাজপুর)প্রতিনিধিঃ

দিনাজপুরের বিরামপুর হাট বাজারে পাট বিক্রি করতে এসে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এ বছর ফলন ভালো হয়েছে তবে দামে খুশি নন তারা। মৌসুমের শুরুতে দাম ভালো পেলেও বর্তমান বাজারের পাটের দাম অনেক কমেছে। বর্তমানে প্রতি মণ পাট ১৮০০ থেকে ২১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।যা গতবছরের তুলনায় অনেক কম।লাভ তো দূরের কথা চাষাবাদের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিরামপুর উপজেলার বিরামপুর ঘাটপাড়ে বসেছে পাটের বাজার। সপ্তাহে দুদিন বসে এ হাট। দুর দূরান্ত থেকে সাইকেল,ভ্যান,গাড়ি জমি চাষে ব্যবহৃত ট্রাক্টর ও টিলারে করে পাট বিক্রি করতে আসেন চাষিরা। তবে হাটে এসে পাটের দাম শুনে মন খারাপ সবারই। গত বছর প্রতি মণ পাটের দাম ছিল ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা । যা কমে এ বছর প্রতি মণ পাটের দাম ১৮০০-২১০০ টাকা।গত বছরগুলোর চেয়ে এ বছর পাটের দাম প্রতি মণে কমেছে ১০০০-১২০০ টাকা। পরিবহন খরচ আর আবাদের খরচ মিলিয়ে তাদের লাভের অঙ্ক প্রায় শূন্যের কোটায়।

বিরামপুর উপজেলার ৭ নং পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের খয়েরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে মোঃনাইম ইসলাম মিলন বলেন, গত বছর গুলোতে পাটের দাম বেশি থাকায় এই প্রথম এবছর দেড় বিঘা জমিতে পাট আবাদ করি। কিন্তু এবছর পাটের দাম এতো কম হবে ভাবতে পারিনি, মনে হয় সামনে আর কোনো দিন পাট আবাদ করবো না।এক বিঘা জমিতে পাট আবাদ করে সার পানি, কীটনাশক, আঁশ ছড়ানো মজুরি খরচসহ ১৪-১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। বিঘায় পাট পাই ৮-১০ মণ। মোট খরচ হিসেবে আমাদের কোনো লাভই থাকে না। কষ্ট করে পাট চাষ করে কী লাভ?

উপজেলার ৭ নং পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের টাটাকপুর গ্রামের মৃত আসাব উদ্দিনের ছেলে আলতাফ হোসেন বলে,৩০ বছর ধরে প্রতি বছরই প্রায় ৩ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করে আসছি। এ বছরে পাটের বাজার দেখে মনে হচ্ছে কোনদিন আর পাট আবাদ করবো না।
বিরামপুর ঘাটপাড়ের পাট ব্যবসায়ী শান্ত কুমার কুন্ডু ও এরোসান কবীর রাজীব বলেন,গত দু’বছর ধরে পাটের দাম কম হওয়ায় পাটচাষিদের মুখে হাসি নেই।পাট চাষে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী কৃষিপণ্য। পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।পাটের দাম কম হওয়ায় সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহন না করলে গৃহস্থরা পাট আবাদ থেকে দিন দিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।
বিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াসের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, এ উপজেলায় পাটের লক্ষ্যমাত্র ছিল ১৭৫ হেক্টর,অর্জন হয়েছে ২০৫ হেক্টর। পাটের বাজার কম হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন পাটের উৎপাদন ভালো হওয়া, সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় দেরিতে জাগ দেওয়ার কারণে কালার ভালো না হওয়া এবং ব্যাবসায়ীদের কারসাজির কারনে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিরামপুরে পাট নিয়ে বিপাকে কৃষক,পাচ্ছে না ন্যায্য মূল্য

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর(দিনাজপুর)প্রতিনিধিঃ

দিনাজপুরের বিরামপুর হাট বাজারে পাট বিক্রি করতে এসে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এ বছর ফলন ভালো হয়েছে তবে দামে খুশি নন তারা। মৌসুমের শুরুতে দাম ভালো পেলেও বর্তমান বাজারের পাটের দাম অনেক কমেছে। বর্তমানে প্রতি মণ পাট ১৮০০ থেকে ২১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।যা গতবছরের তুলনায় অনেক কম।লাভ তো দূরের কথা চাষাবাদের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিরামপুর উপজেলার বিরামপুর ঘাটপাড়ে বসেছে পাটের বাজার। সপ্তাহে দুদিন বসে এ হাট। দুর দূরান্ত থেকে সাইকেল,ভ্যান,গাড়ি জমি চাষে ব্যবহৃত ট্রাক্টর ও টিলারে করে পাট বিক্রি করতে আসেন চাষিরা। তবে হাটে এসে পাটের দাম শুনে মন খারাপ সবারই। গত বছর প্রতি মণ পাটের দাম ছিল ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা । যা কমে এ বছর প্রতি মণ পাটের দাম ১৮০০-২১০০ টাকা।গত বছরগুলোর চেয়ে এ বছর পাটের দাম প্রতি মণে কমেছে ১০০০-১২০০ টাকা। পরিবহন খরচ আর আবাদের খরচ মিলিয়ে তাদের লাভের অঙ্ক প্রায় শূন্যের কোটায়।

বিরামপুর উপজেলার ৭ নং পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের খয়েরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে মোঃনাইম ইসলাম মিলন বলেন, গত বছর গুলোতে পাটের দাম বেশি থাকায় এই প্রথম এবছর দেড় বিঘা জমিতে পাট আবাদ করি। কিন্তু এবছর পাটের দাম এতো কম হবে ভাবতে পারিনি, মনে হয় সামনে আর কোনো দিন পাট আবাদ করবো না।এক বিঘা জমিতে পাট আবাদ করে সার পানি, কীটনাশক, আঁশ ছড়ানো মজুরি খরচসহ ১৪-১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। বিঘায় পাট পাই ৮-১০ মণ। মোট খরচ হিসেবে আমাদের কোনো লাভই থাকে না। কষ্ট করে পাট চাষ করে কী লাভ?

উপজেলার ৭ নং পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের টাটাকপুর গ্রামের মৃত আসাব উদ্দিনের ছেলে আলতাফ হোসেন বলে,৩০ বছর ধরে প্রতি বছরই প্রায় ৩ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করে আসছি। এ বছরে পাটের বাজার দেখে মনে হচ্ছে কোনদিন আর পাট আবাদ করবো না।
বিরামপুর ঘাটপাড়ের পাট ব্যবসায়ী শান্ত কুমার কুন্ডু ও এরোসান কবীর রাজীব বলেন,গত দু’বছর ধরে পাটের দাম কম হওয়ায় পাটচাষিদের মুখে হাসি নেই।পাট চাষে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী কৃষিপণ্য। পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।পাটের দাম কম হওয়ায় সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহন না করলে গৃহস্থরা পাট আবাদ থেকে দিন দিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।
বিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াসের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, এ উপজেলায় পাটের লক্ষ্যমাত্র ছিল ১৭৫ হেক্টর,অর্জন হয়েছে ২০৫ হেক্টর। পাটের বাজার কম হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন পাটের উৎপাদন ভালো হওয়া, সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় দেরিতে জাগ দেওয়ার কারণে কালার ভালো না হওয়া এবং ব্যাবসায়ীদের কারসাজির কারনে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য হতে বঞ্চিত হচ্ছে।