ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বৃষ্টির অভাবে আমন চাষাবাদে কৃষকরা দুর্ভোগের শিকার

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:১৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অগাস্ট ২০২৩
  • / ৩৫৮ বার পড়া হয়েছে

একে আজাদ, রাণীশংকৈল প্রতিনিধি

চলতি মৌসুমেও আমন ধান রোপণে বিপাকে কৃষক। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ভরা বর্ষা মৌসুমে শ্রাবণের ১৪ তারিখ পেরিয়ে গেলেও দেখা মেলেনি পর্যাপ্ত বৃষ্টির। অন্য বছর এ সময় মাঠ-ঘাটে বৃষ্টির পানিতে স্রোত বয়ে গেলেও এবার খরায় মাঠ-ঘাট এখনো শুকনো।

জানা যায়, ঠাকুরগাঁও জেলা কিছুটা উঁচু জায়গায় অবস্থিত। ফলে বৃষ্টির পানি দীর্ঘদিন জমে না। কিছুটা থাকলেও শুধু বর্ষা মৌসুমে ফসলি জমিগুলোয় পানি জমে। এবার বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি সময়েও তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ফসলি জমির পানি শুকিয়ে মাটি ফেটে যাচ্ছে। তারপরও থেমে নেই কৃষকরা। বৃষ্টি হওয়ার আশায় শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে সেচ দিয়ে আমন ধান রোপণ শুরু করেছেন তারা। কৃষকেরা পানি ধরে রাখার জন্য জমির আইল সংস্কার, জমিতে চাষ, সেচ ও ধানের চারা রোপণ এবং ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত।

উপজেলার গোগর গ্রামের কৃষক রানা বলেন, ‘এবার রাসায়নিক সার ও কীটনাশকসহ মজুরির দাম বৃদ্ধি এবং বৃষ্টি না হওয়ায় মেশিনের সেচ দিয়ে ধান রোপণের খরচ দ্বিগুণ হচ্ছে। তাছাড়া বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে সেচ ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এবার আমান ধান উৎপাদন ও ফলনে অনিশ্চয়তায় ভুগছি।’

লেহেম্বা গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘পানি নাই। তাই সময়মতো ধান রোপণ করতে পারছি না। যদিও মেশিনে সেচ দিয়ে কিছু ধান লাগিয়েছি। তাও শুকিয়ে ধানের গাছ লালচে হয়ে যাচ্ছে। মেশিনে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে প্রায় ১ হাজার হতে ১৫০০ টাকা খরচ হচ্ছে। এবার চাষ, সেচ ও দিনমজুরের খরচ অনেক বেশি। তাই এবার ধান উৎপাদনে খরচ অনেক বেশি হয়েছে।’

রাণীশংকৈল উপজেলার ঝারবাড়ি গ্রামের কৃষক হানিফ বলেন, ‘চলতি মৌসুমে বৃষ্টির দেখা নাই। যদিও একটু বৃষ্টি হয়, সেই বৃষ্টিতে মাটিই ভেজে না। এখন শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে ধান লাগানো শুরু করেছি। এছাড়া তাপদাহের কারণে মাটি শুকিয়ে রোপণ করা ধানের গাছ মরে যাচ্ছে।’

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আমন ধান উৎপাদনের জন্য এই উপজেলায় ২১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেচের জন্য এখন পর্যন্ত গভীর নলক‚প ২৩০টি ও অগভীর নলক‚প ৬ হাজার ১৫০টি, বিদ্যুৎ নলক‚প ১হাজার ৫০০টি, এলএলপি ১টি এবং সোলার সেচ পাম্প ২৬ টি চালু হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, এবার বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায় বরেন্দ্রকে বন্ধ থাকা সেচযন্ত্র দ্রæত চালু করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের আমন চাষে সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বৃষ্টির অভাবে আমন চাষাবাদে কৃষকরা দুর্ভোগের শিকার

আপডেট সময় : ০৩:১৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অগাস্ট ২০২৩

একে আজাদ, রাণীশংকৈল প্রতিনিধি

চলতি মৌসুমেও আমন ধান রোপণে বিপাকে কৃষক। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ভরা বর্ষা মৌসুমে শ্রাবণের ১৪ তারিখ পেরিয়ে গেলেও দেখা মেলেনি পর্যাপ্ত বৃষ্টির। অন্য বছর এ সময় মাঠ-ঘাটে বৃষ্টির পানিতে স্রোত বয়ে গেলেও এবার খরায় মাঠ-ঘাট এখনো শুকনো।

জানা যায়, ঠাকুরগাঁও জেলা কিছুটা উঁচু জায়গায় অবস্থিত। ফলে বৃষ্টির পানি দীর্ঘদিন জমে না। কিছুটা থাকলেও শুধু বর্ষা মৌসুমে ফসলি জমিগুলোয় পানি জমে। এবার বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি সময়েও তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ফসলি জমির পানি শুকিয়ে মাটি ফেটে যাচ্ছে। তারপরও থেমে নেই কৃষকরা। বৃষ্টি হওয়ার আশায় শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে সেচ দিয়ে আমন ধান রোপণ শুরু করেছেন তারা। কৃষকেরা পানি ধরে রাখার জন্য জমির আইল সংস্কার, জমিতে চাষ, সেচ ও ধানের চারা রোপণ এবং ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত।

উপজেলার গোগর গ্রামের কৃষক রানা বলেন, ‘এবার রাসায়নিক সার ও কীটনাশকসহ মজুরির দাম বৃদ্ধি এবং বৃষ্টি না হওয়ায় মেশিনের সেচ দিয়ে ধান রোপণের খরচ দ্বিগুণ হচ্ছে। তাছাড়া বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে সেচ ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এবার আমান ধান উৎপাদন ও ফলনে অনিশ্চয়তায় ভুগছি।’

লেহেম্বা গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘পানি নাই। তাই সময়মতো ধান রোপণ করতে পারছি না। যদিও মেশিনে সেচ দিয়ে কিছু ধান লাগিয়েছি। তাও শুকিয়ে ধানের গাছ লালচে হয়ে যাচ্ছে। মেশিনে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে প্রায় ১ হাজার হতে ১৫০০ টাকা খরচ হচ্ছে। এবার চাষ, সেচ ও দিনমজুরের খরচ অনেক বেশি। তাই এবার ধান উৎপাদনে খরচ অনেক বেশি হয়েছে।’

রাণীশংকৈল উপজেলার ঝারবাড়ি গ্রামের কৃষক হানিফ বলেন, ‘চলতি মৌসুমে বৃষ্টির দেখা নাই। যদিও একটু বৃষ্টি হয়, সেই বৃষ্টিতে মাটিই ভেজে না। এখন শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে ধান লাগানো শুরু করেছি। এছাড়া তাপদাহের কারণে মাটি শুকিয়ে রোপণ করা ধানের গাছ মরে যাচ্ছে।’

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আমন ধান উৎপাদনের জন্য এই উপজেলায় ২১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেচের জন্য এখন পর্যন্ত গভীর নলক‚প ২৩০টি ও অগভীর নলক‚প ৬ হাজার ১৫০টি, বিদ্যুৎ নলক‚প ১হাজার ৫০০টি, এলএলপি ১টি এবং সোলার সেচ পাম্প ২৬ টি চালু হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, এবার বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায় বরেন্দ্রকে বন্ধ থাকা সেচযন্ত্র দ্রæত চালু করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের আমন চাষে সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।