ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাঁচবিবিতে বুড়াবুড়ির মাজারে ২৫তম বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিলের প্রস্তুতি সভা হিলি সীমান্তে দুই বাংলার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হরিপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত পাঁচবিবিতে নির্বাচনী মাঠে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোছাঃ রেবেকা সুলতানা বিরামপুরে সমতল ভূমিতে বসবাসরত ৩৫০ ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠীর মাঝে বিনামূল্যে মুরগি বিতরণ পাঁচবিবিতে আবু হোসাইন হত্যা মামলায় মা-ছেলেসহ ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড পাঁচবিবিতে বন্ধুত্বের মিলন মেলা-৯০ অনুষ্ঠিত হিলিতে দিনব্যাপি পণ্য প্রদর্শর্নী ও পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত পাঁচবিবিতে রেলওয়ের সম্পত্তি লীজকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন পাঁচবিবিতে বণিক সমিতির ৫ম সাধারণ সভায় আহবায়ক কমিটি ঘোষনা একাংশের আপত্তি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত ২৫ প্রার্থী

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:১২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ৩২৫ বার পড়া হয়েছে

মো খোকন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্রসহ ৩৪ জন প্রার্থী। তবে নির্বাচনে ভরাডুবির কারণে ২৫ জন প্রার্থীর জামানত খুইয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য একজন প্রার্থীকে ২০ হাজার টাকা জামানত প্রদান করতে হয়। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী একটি আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোটও যদি কোনো প্রার্থী না পান, তাহলে তার সেই জামানাত বাজেয়াপ্ত করা হয়। এক্ষেত্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছয়টি আসনে যেসব প্রার্থীরা মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগেরও কম ভোট পেয়েছেন, তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।

গতকাল রোববার (০৭ জানুয়ারি) রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে মোট প্রদত্ত ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯১০ ভোটের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাহানুল করিম লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ২০৪ ভোট, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির মোহাম্মদ বকুল হোসেন পেয়েছেন ১৪০ ভোট, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো ইসলাম উদ্দিন ৪২৭ ভোট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শোচনীয় পরাজয় হয়েছে জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূইয়ার। আসনটিতে মোট ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৪০টি। এর মধ্যে রেজাউল পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৪০৮ ভোট। বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের ছৈয়দ জাফরুল কদ্দুছ ৫২২ ভোট, তৃর্ণমুল বিএনপি মাইনুল হাসান ৪ হাজার ৩১৮ ভোট, ইসলামী ঐক্য জোটের মো আবুল হাসনাত ৯৯৪ ভোট, এনপিপির মোঃ রাজ্জাক হোসেন ৩৭৯ ভোট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮৮ ভোট। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নৌকার প্রতীকে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অপর দিকে জামানত হারাতে যাওয়া প্রার্থীরা হলেন,বিএনএম এর শাহ জামাল রানা পেয়েছেন ৯৩১ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মাও মুজিবুর রহমান হামিদী ৪৭৩ ভোট, জাসদ(ইনু) মো আবদুর রহমান খান ২২৪ ভোট, এনপিপির সৈয়দ মাহমুদুল হক আক্কাস ৩০৯ ভোট, ইসলামী ফ্রন্ট নুরে আজম ৩৭৬ ভোট, বিএসপির সোহেল মোল্লা ৬৮৮ ভোট পেয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা ও আখাউড়া) আসনে দলীয় প্রার্থী দেয়নি জাতীয় পার্টি। অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের ছৈয়দ জাফরুল কদ্দুছ পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৭৪ ভোট ও এনপিপির শাহীন খান ৬ হাজার ৫৮৬ ভোট।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোবারক হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৭৮ ভোট। আসনটিতে মোট ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৭৩টি ভোট পড়ে। এছাড়াও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের ছৈয়দ জাফরুল কদ্দুছ পেয়েছেন ৭৭৬ ভোট, স্বতন্ত্র মমিনুল হক সাঈদ ৪৭১ ভোট, বিএসপির জামাল সরকার ৭৬২ ভোট, ইসলামী ঐক্যজোটের মেহেদী হাসান ২ হাজার ৭৫৪ ভোট, তৃর্ণমূল বিএনপির হাবিবুর রহমান ৪৩৩ ভোট।

এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আমজাদ হোসেন পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৮১৭ ভোট। বিএসপির কবির মিয়া ১ হাজার ৩৭৩ ভোট ও এনপিপি শফিকুল ইসলাম ১ হাজার ৭৩২ ভোট। এ আসনটিতে ২ লাখ ৯৭০টি ভোট। উল্লেখিত ৬টি আসনে প্রদত্ত ভোট পড়লেও  ভোটের আট ভাগের এক ভাগও না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের ভরাডুবির কারণ জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব নাসির উদ্দিন বলেন, তিনটি আসনে আমাদের প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছিলেন। সারাদেশের ভোটের অবস্থা আপনারা (সাংবাদিক) দেখেছেন। কীভাবে কী হয়েছে, এটা তো বুঝতেই পারছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত ২৫ প্রার্থী

আপডেট সময় : ০৩:১২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৪

মো খোকন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্রসহ ৩৪ জন প্রার্থী। তবে নির্বাচনে ভরাডুবির কারণে ২৫ জন প্রার্থীর জামানত খুইয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য একজন প্রার্থীকে ২০ হাজার টাকা জামানত প্রদান করতে হয়। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী একটি আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোটও যদি কোনো প্রার্থী না পান, তাহলে তার সেই জামানাত বাজেয়াপ্ত করা হয়। এক্ষেত্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছয়টি আসনে যেসব প্রার্থীরা মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগেরও কম ভোট পেয়েছেন, তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।

গতকাল রোববার (০৭ জানুয়ারি) রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে মোট প্রদত্ত ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯১০ ভোটের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাহানুল করিম লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ২০৪ ভোট, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির মোহাম্মদ বকুল হোসেন পেয়েছেন ১৪০ ভোট, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো ইসলাম উদ্দিন ৪২৭ ভোট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শোচনীয় পরাজয় হয়েছে জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূইয়ার। আসনটিতে মোট ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৪০টি। এর মধ্যে রেজাউল পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৪০৮ ভোট। বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের ছৈয়দ জাফরুল কদ্দুছ ৫২২ ভোট, তৃর্ণমুল বিএনপি মাইনুল হাসান ৪ হাজার ৩১৮ ভোট, ইসলামী ঐক্য জোটের মো আবুল হাসনাত ৯৯৪ ভোট, এনপিপির মোঃ রাজ্জাক হোসেন ৩৭৯ ভোট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮৮ ভোট। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নৌকার প্রতীকে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অপর দিকে জামানত হারাতে যাওয়া প্রার্থীরা হলেন,বিএনএম এর শাহ জামাল রানা পেয়েছেন ৯৩১ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মাও মুজিবুর রহমান হামিদী ৪৭৩ ভোট, জাসদ(ইনু) মো আবদুর রহমান খান ২২৪ ভোট, এনপিপির সৈয়দ মাহমুদুল হক আক্কাস ৩০৯ ভোট, ইসলামী ফ্রন্ট নুরে আজম ৩৭৬ ভোট, বিএসপির সোহেল মোল্লা ৬৮৮ ভোট পেয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা ও আখাউড়া) আসনে দলীয় প্রার্থী দেয়নি জাতীয় পার্টি। অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের ছৈয়দ জাফরুল কদ্দুছ পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৭৪ ভোট ও এনপিপির শাহীন খান ৬ হাজার ৫৮৬ ভোট।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোবারক হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৭৮ ভোট। আসনটিতে মোট ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৭৩টি ভোট পড়ে। এছাড়াও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের ছৈয়দ জাফরুল কদ্দুছ পেয়েছেন ৭৭৬ ভোট, স্বতন্ত্র মমিনুল হক সাঈদ ৪৭১ ভোট, বিএসপির জামাল সরকার ৭৬২ ভোট, ইসলামী ঐক্যজোটের মেহেদী হাসান ২ হাজার ৭৫৪ ভোট, তৃর্ণমূল বিএনপির হাবিবুর রহমান ৪৩৩ ভোট।

এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আমজাদ হোসেন পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৮১৭ ভোট। বিএসপির কবির মিয়া ১ হাজার ৩৭৩ ভোট ও এনপিপি শফিকুল ইসলাম ১ হাজার ৭৩২ ভোট। এ আসনটিতে ২ লাখ ৯৭০টি ভোট। উল্লেখিত ৬টি আসনে প্রদত্ত ভোট পড়লেও  ভোটের আট ভাগের এক ভাগও না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের ভরাডুবির কারণ জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব নাসির উদ্দিন বলেন, তিনটি আসনে আমাদের প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছিলেন। সারাদেশের ভোটের অবস্থা আপনারা (সাংবাদিক) দেখেছেন। কীভাবে কী হয়েছে, এটা তো বুঝতেই পারছেন।